সাকিবের সাথে ম্যাচ জিতিয়ে স্বপ্নপূরণ সাইফউদ্দিনের

 

মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনের একটি স্বপ্ন ছিল সাকিব আল হাসানকে নিয়ে। বিশ্বসেরা সেরা অলরাউন্ডারের সঙ্গে জুটি গড়ে দেশকে জেতাবেন তিনি ম্যাচ। তার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচটায়। আর তা হওয়ায় উচ্ছ্বাসে ভাসছেন সাইফ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে রোববার সাইফ উদ্দিন যখন উইকেটে যান, জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন তখন ৬৯ বলে ৬৮ রান। সাকিব অপরাজিত ছিলেন ৬৩ রানে, কিন‘ তাকে উপযুক্ত সঙ্গ দিতে পারছিলেন না কেউ। সাইফই ছিলেন দলের শেষ ভরসা, তেমন ব্যাটিং জানা কেউ আর ছিল না বাইরে। তিনিই হাল ধরেন সাকিবের সঙ্গে। এই জুটিই শেষ পর্যন্ত দারুণ এক জয় এনে দেয় বাংলাদেশকে। ২ উইকেট নিয়ে ও অপরাজিত ৯৬ রান করে ম্যাচের সেরা হন সাকিব। তবে পুরস্কার বিতরণীতে ও পরে বিসিবির ভিডিও বার্তায়ও তিনি বারবার উল্লেখ করেন দলের জয়ে সাইফের বড় অবদানের কথা। সোমবার সাইফ নিজে বললেন, এই ম্যাচ তাকে এনে দিয়েছে স্বপ্ন পূরণের উপলক্ষ। ‘আমি যখন নামি, প্রায় ৬৯ রানের দরকার ছিল তখন। সত্যি বলতে, ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন ছিল, উনার সঙ্গে খেলা, জুটি গড়ে দল জেতানো। কয়েকটা টক শোতে আগেই বলেছিলাম। সুযোগটা কালকে এসেছিল। স্মরণীয় করে রাখার জন্য নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করেছি।’ অবিচ্ছিন্ন ৬৯ রানের ম্যাচ জেতানো জুটি গড়েন দুজন, রান তাড়ায় যা অষ্টম উইকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ। জুটিতে সাকিব করেন ৩০ বলে ৩৩। নিজের সহজাত আক্রমণাত্মক খেলা দমিয়ে রেখে সাইফ অপরাজিত থাকেন ৩৪ বলে ২৮ রানের সময়োচিত ইনিংস খেলে। সাইফ বললেন, পরিস্থিতি বুঝেই নিজেকে সামলে রেখেছিলেন তিনি। সাকিবের ওপর বিশ্বাস ছিল বলেই কেবল সমর্থন দিয়ে গেছেন। ‘অনেক চাপের পরিস্থিতি ছিল। এই সময়টার জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম। হবে কী হবে না, এটা পরের ব্যাপার ছিল। চেষ্টা ছিল নিজের প্রক্রিয়া ঠিক রাখার। সাকিব ভাই ক্রিজে ছিলেন। আমার বিশ্বাস ছিল যে যদি বেশি ডট না খেলি, এক-এক করে নিতে পারি, খেলাটা যদি ছোট করতে পারি, আমাদের পক্ষে আসবে ফল। সেটাই হয়েছে।’ ‘অনেক সময় লুজ বল পেয়েছি, তবু দলের জন্য ডট বল খেলেছি, লফটেড শট খেলিনি। দলের যেটা দরকার ছিল, সে অনুযায়ী চেষ্টা করেছি। সাকিব ভাই যথেষ্ট সাপোর্ট দিয়েছেন, এজন্য আমার কাজ সহজ হয়েছে।’
বাংলাদেশের বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এসেছেন সাইফ। ২০১৬ সালে মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বে দেশের মাটিতে যুব বিশ্বকাপে তৃতীয় হওয়া দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন তিনি। ২৪ বছর বয়সী অলরাউন্ডার বললেন, বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা এই ম্যাচে তার কাজে লেগেছে। ‘বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে ব্যাটসম্যান হিসেবেই ক্যারিয়ার শুরু করি। এর থেকেও চাপের মুখে খেলেছি আমি, ৪০ রানে ৫-৬ উইকেট পড়ে যেত, আমি এক প্রান্ত থেকে এক-দুই খেলে দুইশ পর্যন্ত নিয়ে যেতাম। চাপটা তখন সামলেছি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অবশ্যই চাপটা ভিন্ন। এই প্রথম এরকম চাপের অভিজ্ঞতা হয়তো প্রথম। তবে আমি ওই অভিজ্ঞতাগুলোর কথা বারবার মনে করেছি ক্রিজে এবং সেভাবেই ব্যাটিং করেছি।’
সাকিবের সঙ্গে ম্যাচ জেতানো জুটির পাশাপাশি এই ম্যাচ থেকে সাইফের প্রাপ্তি ছিল আরও। ‘সুযোগ মানুষের সবসময় আসে না।
যেহেতু ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেকে প্রমাণ করতে পারিনি সেভাবে, তাই চেষ্টা ছিল সুযোগ কাজে লাগানোর। নিজের ব্যাটিং সামর্থ্য দেখানো। কিছুটা হলেও দেখাতে পেরেছি। সবচেয়ে বড় কথা, দল জিতেছে আমার ছোট্ট অবদানে। এতে আমি সবচেয়ে বেশি আনন্দিত।’

Print Friendly, PDF & Email

Related Articles

Back to top button