ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট মহাসড়কে অবাধে চলছে ব্যাটারি চালিত রিকশা

ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট মহাসড়কের মতো ব্যস্ততম সড়কে অবাধে চলছে নিষিদ্ধ ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক, সিএনজি ও লেগুনা। মহাসড়কে তাকালেই মনে হয়, এ যেন মহাসড়কটা ব্যাটারীচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের দখলে। এসব গাড়ি বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রতিদিনই ঘটছে নানা দুর্ঘটনা।

সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর ) বিকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট মহাসড়কের শিমরাইল মোড়, সাইনবোর্ড, কাঁচপুর, মদনপুর, মোগরাপাড়া, তারাব, ভুলতা, গাউছিয়া ও কাঞ্চন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। পুলিশের সামনে দিয়ে শত শত ব্যাটারিচালিত রিক্সা, সিএনজি, লেগুনা অবাধে চলাচল করছে ।

তবে হাইওয়ে পুলিশের শিমরাইল ক্যাম্পের টিআই  প্রশাসন মো. মশিউর আলমের দাবি, মহাসড়কে নিষিদ্ধ যান পেলেই আটক করে মামলা দিয়ে সরাসরি ডাম্পিংয়ে পাঠিয়ে দিচ্ছি। গত আগস্ট মাসে ৫৮১টি মামলা দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে অধিকাংশ মামলা ছিলো ব্যাটারি চালিত নিষিদ্ধ রিকশার বিরুদ্ধে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের ঢাকামুখী পয়েন্টে প্রতিনিয়ত যানজট রয়েছে, তার মূলে রয়েছে উল্টো পথে চলাচল করা ব্যাটারি চালিত রিকশা। চালকের আসনে অধিকাংশই হলো ১২-১৪ বছরের শিশু ও বৃদ্ধদের দেখা যায়। ফলে তাদের মধ্যে সচেতনতা বা দায়িত্ববোধ নেই বললেই চলে। এতে সড়ক দুর্ঘটনার পাশাপাশি যানজটের জন্য মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে।

কথা হয় ব্যাটারিচালিত রিকশার চালক মো. টুকু মিয়ার সাথে। ব্যাটারিচালিত রিকশার দাম কম ও ভাড়া বেশি হওয়ায় এটিকে নতুন ব্যবসা হিসেবে নিয়েছেন তিনিসহ অনেকে। প্রতিদিন ১ থেকে ২ হাজার টাকা পযর্ন্ত তার আয় হয়। মহাসড়কে ভাড়া বেশি পাওয়ার আশায় রিকশা চালান তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিদিন নতুন করে রিকশা নামছে ব্যস্ততম সড়কে। একটি রিকশা রাস্তায় নামলেই মালিকের লাভ। একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা তৈরিতে খরচ হয় ৩০/৪০ হাজার টাকা। মাসে আয় হয় কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা। রিকশার কোনো লাইসেন্স লাগে না। চালকেরও কোনো লাইসেন্স বা প্রশিক্ষণ লাগে না।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এসব অটোরিকশার কারণে বিকেল এবং সন্ধ্যায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। তাছাড়া এসব অটোরিকশাগুলো যেসব ইলেকট্রিক হর্ন ব্যবহার করে তাতে প্রচুর পরিমাণে শব্দদূষণ হচ্ছে।

ভুলতা গাউছিয়া এলাকায় মহাসড়কের গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্যাটারি চালিত রিকশা, ইজিবাইক, সিএনজি ও লেগুনা। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের প্রশ্রয়ে টাকা- সিলেট মহাসড়কে দেদারসে নিষিদ্ধ অযান্ত্রিক যান চলাচল করছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

বাংলাদেশ ট্রাক কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতি শিমরাইল শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাওলাদার বলেন, সরকারি নিষেধাজ্ঞাকে পাত্তা না দিয়ে মহাসড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত থ্রি হুইলার (ইজিবাইক) ও মোটরচালিত রিকশা চলাচল করছে। কখনো কখনো পুলিশের অভিযানের মুখে এগুলোর চলাচল সাময়িক বন্ধ থাকছে। তবে অভিযান থেমে গেলে পরিস্থিতি ফিরছে আগের অবস্থায়। ফলে বিভিন্ন অহরহ দুর্ঘটনা ঘটছে। দুর্ঘটনারোধের জন্য এই মহাসড়কে নিষিদ্ধ ও অযান্ত্রিক যানবাহন চলাচল বন্ধ করার দাবি জানান তিনি।

গাজীপুর রিজিয়ন হাইওয়ে পুলিশ সুপার আলী আহম্মদ খান বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড থেকে শিমরাইল পর্যন্ত সিটি কর্পোরেশন এলাকা হওয়ায় চলাচলের জন্য তারা লাইসেন্স দিয়ে থাকে সার্ভিস লাইনে চলাচলের জন্য। তারপরও আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।মহাসড়কে অযান্ত্রিক যান পেলে আটক করে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ অনুসারে দুই হাজার পাঁচ শত টাকা জরিমানা করে মামলা দেওয়া হচ্ছে।

Print Friendly, PDF & Email

Related Articles

Back to top button