ফুসফুসের সুস্থতা বজায় রাখার জন্য নজর দিবেন যেসব বিষয়ে

শরীর খারাপ হলে আমরা প্রায়ই এড়িয়ে যাই। সামান্য শরীর খারাপে আমরা অল্প বিশ্রাম নিয়ে বা ইচ্ছা মতো যে কোনও ওষুধ খেয়ে নিজেদের সরিয়ে তোলার চেষ্টা করে থাকি। অসুস্থতা যতক্ষণ না গুরুতর হয়, ততক্ষণ আমরা সেটাকে নিয়ে বিশেষ ভাবি না।

ফুসফুসের রোগের ক্ষেত্রেও এই ঘটনা খুব আলাদা নয়।  পুষ্টিবিদরা বলেন, ফুসফুসের সঙ্গে আমাদের শরীরের যে সকল কাজ জড়িয়ে আছে, সেগুলো ফুসফুসের প্রাথমিক স্বাস্থ্যের ওপর নির্ভরশীল। তাই ফুসফুসকে সব সময় সুরক্ষিত রাখতে হবে। ফুসফুসের স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য আমাদের ফুসফুসের রোগের লক্ষণ সম্পর্কে জানতে হবে।

বুকে ব্যথা-

কোনও অজানা কারণে বুকে যদি ব্যথা থাকে আর তা যদি এক মাস বা তার বেশি সময় ধরে থাকে তাহলে আপনার সতর্ক হওয়া উচিত। যদি শ্বাস নেওয়ার সময় বুকে কোনওরকম ব্যথা অনুভব করেন, সেক্ষেত্রে সতর্কতার মাত্রা বাড়িয়ে তুলতে হবে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

দীর্ঘস্থায়ী শ্লেষ্মা-

শ্লেষ্মা যাকে থুতু বা কফও বলা হয়, সংক্রমণ বা প্রদাহের বিরুদ্ধে আমাদের সুরক্ষা প্রদান করে। কিন্তু অতিরিক্ত শ্লেষ্মা শারীরিক অসুস্থতার কারণেও তৈরি হতে পারে। যদি আপনার এই অতিরিক্ত শ্লেষ্মা উৎপাদন এক মাস বা তার বেশি সময় ধরে চলতে থাকে তবে এটি ফুসফুসের রোগের কারণেও হয়ে থাকতে পারে।

হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া-

যদি কোনওরকম ডায়েট বা ওয়ার্কআউট ছাড়াই আপনার ওজন কমে যায়, তাহলে এটি একটি চিন্তার কারণ হতে পারে। অনেক সময় শরীরের ভেতরে কোথাও টিউমার হলে আর সেটার আকার বাড়তে থাকলে শরীরের স্বাভাবিক ওজন হঠাৎ কমা শুরু করে।

শ্বাস-প্রশ্বাসের পরিবর্তন-

যদি আপনি শ্বাসকষ্টের শিকার হন বা কোনওভাবে আপনার স্বাভাবিক শ্বাস প্রশ্বাস নিতে অসুবিধার মাঝে পড়েন, তবে এটি ফুসফুসের রোগের লক্ষণ হতে পারে।  ফুসফুসে একটি টিউমার হলে সেই কার্সিনোমা থেকে নিঃসৃত তরল পদার্থ জমে যায়। যা বায়ু চলাচল বন্ধ করে দেয় এবং যার ফলে শ্বাসকষ্ট হয়।

রক্তের সঙ্গে ক্রমাগত কাশি-

যদি আপনার কাশি আট সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে স্থায়ী থাকে আর কাশির সঙ্গে যদি রক্ত পড়তে থাকে, তাহলে খুব দ্রুত আপনার চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা দরকার। এই ধরনের রোগ সাধারণত ফুসফুসের চরম অসুস্থতার কারণেই হয়ে থাকে।

Print Friendly, PDF & Email

Related Articles

Back to top button