সম্পত্তি ক্রোক হচ্ছে ক্যাসিনো সাহেদুলের

ক্যাসিনোকান্ডে হওয়া মামলার পলাতক আসামি সাহেদুল হকের সম্পত্তি ক্রোক করে সেগুলো সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের আওতায় নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলার অভিযোগপত্র হওয়ার পরও তিনি আত্মগোপনে থাকায় দুদক এ উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে। তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে পলাতক। সেখানে অবস্থান করে দেশের বিরুদ্ধে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র, উসকানিমূলক বক্তব্য প্রচার ও সাইবার অপরাধীদের সংগঠিত করছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ফাইন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, সাহেদুল হকের বাবার নাম মোরশেদুল হক। স্ত্রীর নাম তামান্না হক। ঢাকার শান্তিনগরে কাকরাইল রোড ও ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকার দুটি পৃথক ঠিকানা রয়েছে তার। বাংলাদেশ ব্যাংক মানি লন্ডারিং আইন, ২০১২-এর ২৩(১)(গ) ধারার ক্ষমতাবলে সাহেদুল হকের ব্যাংক হিসাব স্থগিত ও তলব করা হয়। একই দিন তার মামা আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের ব্যাংক হিসাবও স্থগিত ও তলব করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ক্যাসিনোকান্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তার বিরুদ্ধেও কমিশনের অনুসন্ধান চলমান।

ক্যাসিনোকান্ডে সম্পৃক্ত হয়ে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০১৯ সালের ১৯ ডিসেম্বর দুদক সাহেদুল হকের বিরুদ্ধে মামলা করে। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১-এর করা মামলাটির বাদী কমিশনের সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী। ওই মামলায় সাহেদুলের বিরুদ্ধে ১৩ কোটি ৬৫ লাখ ৪০ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। ২০১৯ সালে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের পর সাহেদ নিজ ব্যাংক হিসাব থেকে নগদ ১৪ কোটি টাকা তুলে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২৩ জানুয়ারি তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) রাখার নির্দেশ দেয় আদালত।
৩১ জানুয়ারি সাহেদুল হকের বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটে তার আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ৩২ কোটি ৬১ লাখ ৬১ হাজার ৩৩৪ টাকার সম্পদ অর্জনের প্রমাণ মেলে বলে উল্লেখ করা হয়। এসব সম্পদের আয়ের উৎস দেখাতে না পারায় কমিশন তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে।

সাহেদুলের মালিকানাধীন কাকরাইলে খুলনা ট্রেড স্কয়ার নামক ১৪ তলা ভবনসহ বিভিন্ন সম্পত্তি রয়েছে। এ ছাড়া তার আয়কর রিটার্নেও ব্যাপক গরমিল রয়েছে। সেখানে তার ১১ কোটি ৬৭ লাখ ৬৯ হাজার ২৮৯ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ পাওয়া গেছে। দুদক ২০ কোটি ৯৩ লাখ টাকার স্থাবর ও ১১ কোটি ৬৭ লাখ টাকার অস্থাবর অবৈধ সম্পদ রাখার অভিযোগে এ চার্জশিট দাখিল করে। একটি বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালকও ছিলেন তিনি। ক্যাসিনো ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তার যোগসাজশ রয়েছে বলে জানতে পারে দুদক।

মামলার এজাহারে বলা হয়, সাহেদুল হক ২০১৭-১৮ করবর্ষ পর্যন্ত তার আয়কর রিটার্নে একটি কোম্পানিতে বিনিয়োগ দেখিয়েছেন ১ কোটি ১ লাখ টাকা, যার প্রকৃত উৎস পায়নি দুদক। আয়কর রিটার্নে সাহেদুল হক নগদ ও বিভিন্ন ব্যাংকে জমা ৬২ লাখ ৪০ হাজার টাকা অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দিলেও অনুসন্ধানের সময় তার নামে বিভিন্ন ব্যাংকের হিসাব যাচাই-বাছাই করে ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৯৯ হাজার টাকা পাওয়া গেছে। এগুলোরও বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি। সাহেদুলের নামে আরও ২ কোটি ৬২ লাখ ৬১ হাজার টাকার স্থাবর সম্পত্তির তথ্য পেয়েছে দুদক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের এক পরিচালক বলেন, ‘সাহেদুল হক পলাতক। তার সম্পত্তি ফ্রিজ করা রয়েছে। এখন সেগুলো দুদকের অনুকূলে জব্দ করে সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের আওতায় নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এ ছাড়া আসামির বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। তাকে হাজির হওয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়াসহ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন হবে। তিনি আদালতে হাজির না হলে তার অনুপস্থিতিতেই বিধি অনুযায়ী শাস্তি কার্যকর করা হবে।’

আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, সাহেদুল হক আমেরিকায় বসে বিভিন্ন সাইবার অপরাধীর সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তিনি বেশ কয়েকজন চিহ্নিত সাইবার অপরাধীর আশ্রয়দাতা ও অর্থদাতা। তার বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থার তৎপরতা অব্যাহত আছে।

Print Friendly, PDF & Email

Related Articles

Back to top button