চট্টগ্রামের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সাথে অস্ট্রেলিয়ান হাইকশিনারের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রামের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সাথে অস্ট্রেলিয়ান হাইকশিনারের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিতঃ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কোন্নয়নের আশাবাদ

বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনার জেরেমি ব্রুয়ার (H.E. Mr. Jeremy Bruer) ১০ অক্টোবর সন্ধ্যায় নগরীর একটি হোটেলে চট্টগ্রামের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এবং গ্রুপের সাথে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। এ সময় দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র সভাপতি মাহবুবুল আলম ও সিনিয়র সহ-সভাপতি তরফদার মোঃ রুহুল আমিন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র ১ম সহ-সভাপতি শওকত আলী চৌধুরী, বিএসএম গ্রুপ’র চেয়ারম্যান আবুল বশর চৌধুরী, আবুল খায়ের গ্রুপ’র পরিচালক শাহ শফিকুল ইসলাম, সান শাইন গ্রামার স্কুল এন্ড কলেজ’র প্রিন্সিপাল সাফিয়া রহমান, হাই কমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারী ডানকান ম্যাককালা (Mr. Duncan McCullough) ও কমিশনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিমকালে হাইকমিশনার জেরেমি ব্রুয়ার বলেন-স্বাধীনতা পরবর্তী থেকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তাঁর দেশ সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে আসছে। তিনি আগামী বছর দু’দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে হাই কমিশনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করা হবে বলে সভায় অবহিত করেন। হাই কমিশনার কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে উভয়দেশের মধ্যে বাণিজ্যে ছন্দপতন ঘটেছে বলে মন্তব্য করে আগামী দিনগুলোতে অধিকতর বাণিজ্য বৃদ্ধি ও সম্পর্কোন্নয়নের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে ট্রেড এন্ড ইনভেস্টমেন্ট ফ্রেইমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট (টিফা) চুক্তির প্রসংগ উল্লেখ করে বলেন-এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দু’দেশের মধ্যে ব্যবসা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাসমূহ দূরীকরণে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। জেরেমি ব্রুয়ার দেশের অর্থনীতির অগ্রগতি ও করোনাকালীন বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করে বাংলাদেশের সমৃদ্ধি ও উন্নয়নে অস্ট্রেলিয়ান সরকারের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

চিটাগাং চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম দু’দেশের মধ্যে চমৎকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রসংগ উল্লেখ করে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অস্ট্রেলিয়ান সরকারকে ধন্যবাদ জানান। তিনি উভয়দেশের মধ্যে প্রচুর সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কাংখিত পর্যায়ে পৌঁছেনি বলে মন্তব্য করেন। মাহবুবুল আলম পিপল টু পিপল সম্পর্কোন্নয়নের উপর গুরুত্বারোপ করে বৃহত্তর চট্টগ্রামে সরকারের মেগা প্রকল্পগুলো বিশেষ করে বে-টার্মিনাল নির্মাণ শেষে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এবং ব্যবসায়ীদের কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস হ্রাস পাবে বলে হাই কমিশনারকে অবহিত করেন। চেম্বার সভাপতি বৈশ্বিক পণ্যমূল্য বৃদ্ধির প্রসংগ উল্লেখ করে অস্ট্রেলিয়া হতে আমদানিকৃত পণ্যের ক্ষেত্রে লজিস্টিক্স সাপোর্ট আরো বাড়ানোর অনুরোধ জানান। তিনি বঙ্গবন্ধু শিল্প নগরে অস্ট্রেলিয়ান ইকোনমিক জোন স্থাপন এবং বিনিয়োগ প্রত্যাশা করেন। মাহবুবুল আলম চিটাগাং চেম্বারের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ সেন্টার অব এক্সিলেন্স সম্পর্কে অবহিত করে অস্ট্রেলিয়ান স্ট্যান্ডার্ড কারিগরি ট্রেনিং সেন্টার এবং যৌথ রিসার্চ কার্যক্রম গ্রহণের অনুরোধ জানান। তিনি আগামী বছর উভয়দেশের মধ্যে সম্পর্কস্থাপনের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন চিটাগাং চেম্বার এবং হাই কমিশন যৌথভাবে চট্টগ্রামে করারও আহবান জানান। চিটাগাং চেম্বার সিনিয়র সহ-সভাপতি তরফদার মোঃ রুহুল আমিন বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে উভয়দেশের বেসরকারি উদ্যোক্তাদের আরো বেশী এক সাথে কাজ করার উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর, চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়নে অস্ট্রেলিয়ান বিনিয়োগ প্রত্যাশা করেন। সিনিয়র সহ-সভাপতি কোভিডজনিত কারণে জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধি, নতুন কোন জাহাজ ও কন্টেইনার তৈরী হচ্ছে না উল্লেখ করেন এবং দেশের অবকাঠামো, টেলিযোগাযোগ, জ্বালানী, ব্লু-ইকোনমিতে অস্ট্রেলিয়ার সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

সভায় অন্যান্য বক্তারা বৈশ্বিক কন্টেইনার ও ভ্যাসেল সংকট, শিপিং সহায়তা বাড়ানো, চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিকমানের ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, অস্ট্রেলিয়ান কোম্পানীর এদেশে স্থানান্তরকরণ, বেসরকারি খাতের উন্নয়ন, স্পোর্টস হেলথ সেন্টার, শিক্ষা ও শিল্প খাতে সহযোগিতা, দেশে অস্ট্রেলিয়ান পণ্য দ্রব্যের অবস্থান, নিয়মিত শিক্ষা মেলার আয়োজন, কোভিড পরিস্থিতি, অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণ চালুকরণ, অস্ট্রেলিয়ায় অধ্যায়নরত বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের দ্রুত ক্লাস চালুকরণ ইত্যাদি বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

Print Friendly, PDF & Email

Related Articles

Back to top button