স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে হার ও মাহমুদুল্লাহর একঘেয়ে অধিনায়কত্ব

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের কাছে হেরে বিশ্বকাপ মিশনে হোঁচট খেয়েছে টাইগাররা। এ নিয়ে স্কটিশদের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে দু’বারের দেখায় প্রতিবারই হার দেখল বাংলাদেশ। মাত্র ছয় রানের ব্যবধানে হেরে যায় টাইগাররা।

টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ। এরপর ১৪০ রানেই স্কটল্যান্ডকে আটকে ফেলে টাইগার বোলাররা। জবাবে মাত্র ১৩৪ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ।

ম্যাচের শুরুতে নতুন বলে পেসারদের বোলিং ভালোই হচ্ছিল। এসেছিল বেশ কিছু ডট বল, যা দেখে মনে হচ্ছিল ম্যাচ বাংলাদেশের অনুকূলেই যাচ্ছে। তবে পেসারদের দিয়ে ৬ ওভার করানোটা একটু বেশি হয়ে গেছেই বলে মনে হয়। এখানে স্পিনের সঙ্গে সমন্বয় করা উচিত ছিল।

প্রথমে টানা পেসার, পরে টানা স্পিনারদের দিয়ে বল করিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। তার এই অধিনায়কত্বের বিষয়টি কতটা যুক্তিযুক্ত তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার সুযোগ রয়েছে। তাছাড়া শেষ দিকে স্পিনারদের ওভারই ছিল না। প্রথম ইনিংসে এ জায়গায় একঘেয়ে অধিনায়কত্বই করেছেন মাহমুদউল্লাহ। যদিও প্রথম ১০ ওভারে যখন ৩৭টি বল ডট হলো, তখন মনে হচ্ছিল স্কটল্যান্ড পিছিয়ে গেল। সোজা ব্যাটে খেলছিলেন স্কটিশরা, আড়াআড়ি খেলার চেষ্টা করেননি তারা। তখন ধারণা হচ্ছিল ওরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে ছিটকে যাবে। হয়তো তাদের দ্রুত অলআউট করে দিতে মাহমুদউল্লাহ এমন অধিনায়কত্ব করে থাকতে পারেন। তবে সবকিছুকেই গুরুত্বসহকারে নেওয়া উচিত। ম্যাচের পরিস্থিতি বিবেচনায় তাকে আরেকটু কৌশলি হওয়া উচিত ছিল।

অন্যদিকে, ব্যাটিংয়েও সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি মাহমুদুল্লাহ। মনে হয়েছে বাংলাদেশ প্রতিপক্ষকে নিয়ে কোনও হোমওয়ার্কই করেনি। যেখানে মুশফিকুর রহিমের ফর্মে নেই, সেখানে তাকে পাওয়ার প্লেতে খেলানোর কোনো মানে হয় না। মুশফিককে পাওয়ার প্লেতে আনা হলে তার ওপর চাপ থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কৌশলগত কারণে তাকে পরে নামিয়ে যার আত্মবিশ্বাস আছে, তাকে আনা উচিত ছিল আগে। বাংলাদেশ দলের বর্তমানে ব্যাটিংয়ের যে অবস্থা, তাতে সাহসের সঙ্গেই এ রকম কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। কিন্তু মাহমুদুল্লাহ তা করতে পারেননি।

Print Friendly, PDF & Email

Related Articles

Back to top button