‘মাস্টারকার্ড এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০২১’ ঘোষণা করল মাস্টারকার্ড বাংলাদেশ

 

এই আয়োজনের মাধ্যমে অন্যতম শীর্ষস্থানীয় গ্লোবাল পেমেন্ট টেকনোলজি কোম্পানি ‘মাস্টারকার্ড’ বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং এদেশে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক কার্যক্রমের ৩০ বছর পূর্তি উদযাপন করছে

ঢাকা, বাংলাদেশ, ১৮ নভেম্বর, ২০২১: মাস্টারকার্ড বাংলাদেশে ব্যবসায়িক কার্যক্রমের ত্রিশ বছর পূর্তি উপলক্ষে এবং প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ পার্টনার ব্যাংক, ফিনান্সিয়াল ইন্সটিটিউশন এবং মার্চেন্টদের স্বীকৃতি স্বরূপ ‘মাস্টারকার্ড এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০২১’- নেক্সট এন্ড বিয়ন্ড ঘোষণা করেছে। বৃহস্পতিবার (১৮ নভেম্বর) রাজধানী ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে অ্যাওয়ার্ড বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয় এবং একইসঙ্গে উদযাপন করা হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পূর্তিও। মাস্টারকার্ড এদেশে প্রথম নিজস্ব অফিস স্থাপন করা গ্লোবাল পেমেন্ট টেকনোলজি কোম্পানি, যেটি ২০১৩ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে নিজস্ব অফিসের মাধ্যমে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী এম এ মান্নান, এমপি; বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. খুরশিদ আলম; ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস এর ‘চার্জ ডি অ্যাফেয়ার্স’ হেলেন লা ফেইভ। এছাড়া, আরো উপস্থিত ছিলেন মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের পার্টনার ব্যাংক, ফিনটেক পার্টনার, অন্যান্য মার্চেন্ট এবং বিশিষ্টজনেরা।

আর্থিক খাতে অন্তর্ভুক্তি অর্জনের ক্ষেত্রে অবদান রাখা ব্যাংক, ফিনটেক ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান সমূহকে স্বীকৃতি প্রদানের লক্ষ্যে ২০১৯ সাল থেকে প্রদান করা হচ্ছে ‘মাস্টারকার্ড এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’। ঠিক ত্রিশ বছর আগে এদেশে ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরুর পর হতে মাস্টারকার্ড বাংলাদেশ দেশের মানুষের জন্য আর্থিক খাতে অন্তর্ভুক্তিমূলক লক্ষ্য পূরণের উদ্দেশে নিরবচ্ছিন্ন, নিরাপদ ও সুদক্ষ ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে। ‘মাস্টারকার্ড এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ প্রদানের তৃতীয় বছরে এবার মাস্টারকার্ড ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধিতে উদ্ভাবন এবং সফলতায় অবদান রাখা পার্টনারদের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে স্বীকৃতি দিচ্ছে।

মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন, “মাস্টারকার্ড শুরু থেকেই বাংলাদেশের মানুষকে উদ্ভাবনী ডিজিটাল পেমেন্ট সল্যুশন প্রদানের মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির প্রসারে গুরুত্ব দিয়ে আসছে। নিত্যনতুন টেকনোলজি এবং পার্টনারশিপ এর সমন্বয়ে মাস্টারকার্ড দেশে নিরবচ্ছিন্ন, নিরাপদ ও সুদক্ষ পেমেন্ট ইকোসিস্টেম গড়ার মাধ্যমে কার্ডহোল্ডারদেরকে সেরা আর্থিক সুল্যশন প্রদানে সচেষ্ট রয়েছে ও সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ এর ভিশন বাস্তবায়নে অবদান রাখছে।

তিনি আরো বলেন, “এদেশে মাস্টারকার্ডের ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রতিষ্ঠানটি তার গুরুত্বপূর্ণ পার্টনার ব্যাংক, ফিনটেক পার্টনার, মার্চেন্ট, রেগুলেটর এবং সরকারকে অব্যাহত সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছে ও তাদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে। বিশেষ করে মহামারির কঠিন পরিস্থিতিতে তারা পাশে থাকায় সবার জন্য নিত্যদিনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম ছিল সহজ, নিরাপদ ও কার্যকর।”

১৯৯১ সালে মাস্টারকার্ড বাংলাদেশে তার ব্যবসায়িক সম্পর্কের সূচনা করে এবং পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালে মাস্টারকার্ড ব্র্যান্ডের প্লাস্টিক কার্ড প্রথম বাজারে আসে। এতে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক কার্যক্রম মজবুত ভিত্তি পায়। মাস্টারকার্ড বর্তমানে টেকনোলজি ও গ্লোবাল পেমেন্ট সেক্টরে বিশ্বব্যাপী তার অর্জিত দক্ষতা আর্থিক অন্তর্ভুক্তির প্রসারে অবদান রাখছে।

বিগত ৩০ বছর ধরে মাস্টারকার্ড এদেশের শীর্ষ আর্থিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পার্টনারশিপ তৈরি করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে, এবি ব্যাংক লিমিটেড, ব্যাংক এশিয়া লিমিটেড, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, ব্র্যাক ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড, ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড (ইবিএল), ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, লঙ্কাবাংলা ফিন্যান্স, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড, ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড, এনসিসি ব্যাংক লিমিটেড, প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেড, প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড, পূবালী ব্যাংক লিমিটেড, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড (এসআইবিএল), সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেড, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, দি সিটি ব্যাংক লিমিটেড এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি)।

বাংলাদেশের গ্রাহকদের উদ্ভাবনী পেমেন্টে সল্যুশন সেবা প্রদান করতে মাস্টারকার্ড চলতি বছর তার পার্টনারদের সঙ্গে বিভিন্ন সহযোগিতামূলক পার্টনারশীপের কথা ঘোষণা করেছে। তারই অংশ হিসেবে মাস্টারকার্ড বাংলাদেশ চালু করেছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ মাল্টিলেটারেল (বহুপাক্ষিক) রেমিট্যান্স সার্ভিস ‘হোমসেন্ড’, এরে ফলে বিশ্বের ১৩৬টি দেশ থেকে ৯ কোটি বাংলাদেশি স্বদেশে অর্থ পাঠাতে পারবেন। এছাড়া, মাইক্রো মার্চেন্টদের অনলাইন আর্থিক সেবায় যুক্ত করতে হোয়াইট লেবেল ‘বাংলা কিউআর’, নারীদের জন্য প্রথমবারের মতো সুপার প্রিমিয়াম মাস্টারকার্ড ‘তারা ওয়ার্ল্ড ক্রেডিট কার্ড এবং মিলেনিয়াল প্রজন্মের জন্য দেশের প্রথম ‘মাস্টারকার্ড টাইটেনিয়াম মিলেনিয়াল ক্রেডিট কার্ড ও চালু করেছে মাস্টারকার্ড।

Print Friendly, PDF & Email

Related Articles

Back to top button