রজভীয়া নূরীয়া কমিটির যৌতুক-মাদক ও জঙ্গীবাদ বিরোধী মহাসমাবেশে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এম.পি


যৌতুক-মাদক ও জঙ্গীবাদের অভিশাপ থেকে বাঁচতে প্রত্যেককে
নিজ নিজ অবস্থান থেকে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে হবে
দ্বীনি-কর্তব্য ও মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে সূচিত এ
যৌতুকবিরোধী আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়া হবে- আল্লামা আবুল কাশেম নূরী
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় মহাসচিব ও আন্জুমানে রজভীয়া নূরীয়া ট্রাস্টের চেয়ারম্যান পীরে তরিক্বত আল্লামা মুহাম্মদ আবুল কাশেম নূরীর (মু.জি.আ) আহবানে সাড়া দিয়ে ৪ ডিসেম্বর শনিবার বিকেলে চট্টগ্রাম হাটহাজারী বাসস্ট্যান্ড জামেয়া অদুদিয়া সুন্নিয়া ফাযিল মাদ্রাসা সংলগ্ন মাঠে অনুষ্ঠিত যৌতুক-মাদক ও জঙ্গীবাদ বিরোধী মহাসমাবেশে হাজার হাজার যুবক যৌতুকমুক্ত বিয়ের শপথ করেছে। সেই সঙ্গে তারা সমস্বরে মাদক ও জঙ্গীবাদকে ‘না’ বলে সুন্দর পরিচ্ছন্ন জীবন গড়ার শপথ নিয়েছে। রজভীয়া নূরীয়া কমিটি বাংলাদেশ হাটহাজারী উপজেলার আয়োজনে এবং আহলে সুন্নাত যুব পরিষদের সার্বিক সহযোগিতায় মহাসমাবেশে আজ বক্তারা বলেছেন, যৌতুক দেয়া-নেয়া দুটোই ঘৃণ্য নিকৃষ্ট পন্থা। যৌতুকের অভিশাপ গ্লানি থেকে লাখো গরিব অসহায় পরিবারগুলোকে বাঁচাতে যৌতুক দেয়া নেয়ার বিরুদ্ধে দেশব্যাপী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। ঘরে ঘরে এই সামাজিক দুষ্টক্ষতের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ ও গণঘৃণাবোধ জাগ্রত করতে হবে। বক্তারা যৌতুক, নারী নিপীড়ন, শিশু নির্যাতন, অ্যাসিড সন্ত্রাস, ধর্ষণ, জঙ্গীবাদ ও মাদকমুক্ত দেশ ও সমাজ গড়তে সরকারকে কঠোর আইন প্রণয়নের পাশাপাশি এর কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করার আহবান জানান। বক্তারা দল মত শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের মাধ্যমে এসব দুষ্টক্ষেত নির্মূল করার ওপর গুরুত্বরোপ করেন। মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-৫ আসনের সাংসদ ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এম.পি। তিনি বলেন, যৌতুক ও মাদক আজ জাতীয় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব সামাজিক কুসংস্কার ও অবক্ষয় প্রবণতা থেকে বাঁচতে হলে জাতীয় জাগরণ ও সম্মিলিত সচেতনতা জরুরি। প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখলে যৌতুক ও মাদকের গ্লানি থেকে নিস্কৃতি মিলবে বলে আশা করা যায়। আল্লামা নূরী এ ধরণের গণমুখী উদ্যোগ নেয়ায় সাংসদ তাঁকে ধন্যবাদ জানান এবং সবরকম সহযোগিতায় আশ্বাস দেন। হাটহাজারী উপজেলা চেয়ারম্যান এস.এম. রাশেদুল আলম রাশেদ বলেন, শুধু সরকার একার পক্ষে যৌতুক ও মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। এজন্য চাই সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সমন্বিত প্রয়াস। আলেম সমাজ সোচ্চার হলে এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখলে এসব সামাজিক অভিশাপ থেকে আমরা পরিত্রাণ পেতে পারি। মুখ্য আলোচক ছিলেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় মহাসচিব ও আন্জুমানে রজভীয়া নূরীয়া ট্রাস্টের চেয়ারম্যান পীরে তরিক্বত আল্লামা মুহাম্মদ আবুল কাশেম নূরীর (মু.জি.আ)। তিনি বলেন, দ্বীনি দায়িত্ব, বিবেকের তাড়না ও মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই আমি যৌতুক ও মাদকবিরোধী আন্দোলন শুরু করেছি চট্টগ্রাম থেকে। পর্যায়ক্রমে এ আন্দোলন সারা দেশ ছড়িয়ে দেয়া হবে ইনশাল্লাহ। তিনি তাঁর সূচিত এ আন্দোলনে সম্পৃক্ত ও সহযোগিতাকারী সকলের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। উদ্বোধক ছিলেন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আল্লামা মুফতি গিয়াস উদ্দীন আত্ব-তাহেরী। তিনি বলেন, আলেম সমাজের অহংকার আল্লামা নূরীর দ্বীনি দায়িত্ববোধ ও মানবিক মমত্ববোধ দেখে আমরা অনুপ্রাণিত হই। তাঁর মতো উলামা মাশায়েখরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে, নিজ নিজ দরবার ও খানকাহ থেকে এ ধরনের সামাজিক দায়িত্ব পালনে এগিয়ে গেলে যৌতুক-মাদকসহ সব ধরনের অপরাধ প্রবণতা থেকে আমরা রেহাই পেতাম। তিনি যৌতুক ও মাদকবিরোধী কঠোর আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগের বিকল্প নেই বলে উল্লেখ করেন। মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আল্লামা মুফতি আলাউদ্দিন জিহাদী বলেন, যৌতুক বিরোধী আইন থাকলেও আইনের কঠোর প্রয়োগ নেই। ফলে এই সামাজিক কুসংস্কার থেকে বেরিয়ে আসা যাচ্ছে না। তিনি আল্লামা নূরীর এ ধরনের গণমুখী কাজে সকলের সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করেন। প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক মুহাম্মদ ফরিদুল আলম এবং সদস্য সচিব মুহাম্মদ আব্দুশ শুক্কুর এর যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মহাসমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রজভীয়া নূরীয়া কমিটি হাটহাজারী উপজেলার সভাপতি সৈয়দ মুহাম্মদ সিরাজুল আলম। মহাসমাবেশে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন রাজনীতিক আলহাজ্ব ইউনুস গণি চৌধুরী, হাটহাজারী উপজেলা চেয়ারম্যান এস.এম. রাশেদুল আলম রাশেদ, আল্লামা মুফতি কাযী আবুল এরফান হাশেমী, আল্লামা মুফতি কাযী শাহেদুর রহমান হাশেমী, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আল্লামা মুফতি আলাউদ্দিন জিহাদী, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আল্লামা মুফতি গিয়াস উদ্দীন আত্ব-তাহেরী, অধ্যক্ষ আল্লামা ছালেহ্ আহম্মদ আনসারী, অধ্যক্ষ আল্লামা জাকের আহম্মদ ছিদ্দিকী, শাহজাদা সৈয়দ মুহাম্মদ এনামুল হক, সাবেক ছাত্রনেতা সৈয়দ মন্জুরুল আলম, যুবলীগ নেতা এম এ রাসেল, উপজেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক মুুহাম্মদ হাসান, শাহ্জাদা মুফাক্কেরুল ইসলাম, এইচ এম মন্জুরুল আনোয়ার, সাবেক ছাত্রনেতা মুহাম্মদ মাছুমুর রশিদ কাদেরী, মুুহাম্মদ দিদারুল আলম মাইজভান্ডারী, আবু ছালেহ আঙ্গুর, মাওলানা কুতুবুদ্দীন শাহ্ নূরী, শাহ্জাদা মুুহাম্মদ সালেকুল মাওলা, প্রবাসী নেতা আরিফুল ইসলাম আজম, হাফেজ আবুল হোসেন, মাওলানা নাজিম উদ্দিন নূরী, মুহাম্মদ আবুল হাসান, মুুহাম্মদ তারেক আজিজ, মুুহাম্মদ আইয়ুব তাহেরী, মাওলানা জাফর উদ্দিন কামালী, মুুহাম্মদ মিনহাজ উদ্দিন সিদ্দিকী, এহসানুল করিম, মুুহাম্মদ হোসেন চৌধুরী, মুুহাম্মদ সাফওয়ান নূরী প্রমুখ। বাদে মাগরিব তাফসীরুল কুরআন মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

Print Friendly, PDF & Email

Related Articles

Back to top button